বক্সিংয়ে বাংলাদেশের উৎসব আহমেদ এর চমক

রিংয়ের পাশে উৎসব আহমেদের মাকেও বসে থাকতে দেখা গেছে অনেক সময়। বক্সিং খেলাটা আর দশটা খেলার মতো নয়। একজন আরেকজনকে ঘুষির পর ঘুষিতে ঘায়েল করছেদেখতে স্নায়ুর জোরও লাগে। মায়ের জন্য তো তা আরো কঠিন।

তবু উৎসব থামবেন না। মায়ের হাজার বারণ উপেক্ষা করে বক্সিংয়েই মন সঁপেছেন এই তরুণ। মা আশা খাতুন পরে মেনে নিয়েছেন। উৎসবও সাফল্য দিয়ে মাকে আনন্দে ভাসিয়েছেন।

গত বছর ঢাকায় ডব্লিউবিসি এশিয়ান সিলভার টাইটেল জিতেছেন মায়ের সামনেই। এ বছর ব্যাংককে থাই বক্সারের বিপক্ষে পেশাদার ক্যারিয়ারের তৃতীয় জয়ে মা অবশ্য পাশে থাকতে পারেননি, যেমন পারেননি গত ১৩ এপ্রিল ভুটানে চার জাতি অ্যামেচার বক্সিংয়ে উৎসবের সোনা জয়ের সময়। লড়াইয়ের রুক্ষ জমিনে ছেলের আত্মবিশ্বাসী পথচলাই হয়তো সাহস জুগিয়েছে আশা খাতুনকে। আসলেও তাই, পেশাদার ক্যারিয়ারে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১১টি লড়াইয়ের সবকটিতেই জিতেছেন উৎসব।


সোনা জিতেছেন নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অ্যামেচার টুর্নামেন্টেই।

বাংলাদেশের বক্সিংয়ের বৃত্তটা আসলে ভেঙে গেছে। সাধারণত অ্যামেচার খেলা শেষ করেই পেশাদার জগতে নাম লেখান বক্সাররা। এই অ্যামেচার মানে শৌখিন বক্সিংও না। অলিম্পিকে যে লড়াই হয় সেটিও অ্যামেচার লড়াই।

এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস বা এসএ গেমসের বক্সিংও অ্যামেচার; যেখানে অর্থের কোনো ব্যপার নেই, লড়াইটা মর্যাদার। উল্টোদিকে পেশাদার লড়াইয়ের মূলেই অর্থ। দুজন প্রতিপক্ষকে সামনে রেখে আগে ঠিক হয় কত অঙ্কের খেলাটা হবে। বাংলাদেশ অ্যামেচার বক্সিংয়ে ঘরোয়া আসর ভীষণ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় বক্সারদের ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। উৎসবই যেমন গত তিন বছর যাবৎ সিনিয়র পর্যায়ে খেলা শুরু করলেও এখনো জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারেননি, সর্বশেষ সেটি হয়েছে ২০২১ সালে।

এই সময়টায় দেশের পেশাদার বক্সিংয়ের আসর নিয়মিত হয়ে গেলে উৎসব বরং সেদিকে ঝুঁকে পড়েন। অ্যামেচারে নাম করার আগেই উৎসব তাই সাফল্য পান পেশাদারে। এখন দুটিই একসঙ্গে চালাচ্ছেন তিনি। গত বছর থাইল্যান্ডে প্রথম আন্তর্জাতিক অ্যামেচার টুর্নামেন্ট খেলেন তিনি, ভুটানে ছিল দ্বিতীয় আসর। তাতে স্বাগতিক ভুটান ও নেপালের দুই বক্সারকে হারিয়ে জিতেছেন সোনা। অ্যামেচার বক্সিং নিয়েও উৎসবের স্বপ্নটা তাই বেড়েছে, আসলে ছোটবেলায় অ্যামেচার বক্সিংই দেখেছি। আমার মামা জুয়েল আহমেদ ২০১০ এসএ গেমসে সোনা জেতেন। বক্সিং নিয়ে সেই থেকেই আগ্রহ বেড়েছিল। এসএ গেমসেও কিছু করার স্বপ্ন আমার তখন থেকে। আগামী জানুয়ারিতে পাকিস্তানে হবে এবারের আসর। আমি সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব এই আসর থেকে দেশের হয়ে সোনা জিততে।


বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনও নিশ্চিত সেই স্বপ্ন দেখছে। ভুটান থেকে ফেরার পর গতকাল তাঁকে সংবর্ধনাও দিয়েছে ফেডারেশন। ৫০ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কারও পেয়েছেন উৎসব। বাংলাদেশ আনসারের হয়ে ঘরোয়া আসরগুলোতে খেলেন উৎসব। সংবর্ধনা পেয়েছেন সেখানেও। রাজশাহীর মডার্ন বক্সিং ক্লাবে খেলাটা শেখা তাঁর। মামাকে দেখে রিংয়ে নেমে পড়েছিলেন ৭ বছর বয়সেই। ২০১৭ সালে জুনিয়র বক্সিংয়ে প্রথম সোনা জেতেন। সিনিয়র পর্যায়ে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস টুর্নামেন্ট জিতেছেন। পেশাদারে অংশ নিচ্ছেন ২০২২ সাল থেকে। সেখানে এখনো অপরাজিত তিনি।




Comments

Popular posts from this blog

"কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি ডাটা সেন্টারের"

জাকেরের ছক্কার রেকর্ড ও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রানের টি–টোয়েন্টি